Skip to main content

NewsHoursLive.Com

, ,

চাকসু নির্বাচন: বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তবু থেমে নেই প্রচারণা

চাকসু নির্বাচন: বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তবু থেমে নেই প্রচারণা

প্রতিবেদক: কামরুল ইসলাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বন্ধ থাকলেও থেমে নেই আসন্ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিজ্ঞান অনুষদ মসজিদের সামনে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা একত্র হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ভোট চান।নামাজ শেষে প্রার্থীদের প্রচারণাআজ বিজ্ঞান অনুষদের মসজিদে নামাজ আদায় করেন ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী সাইদ বিন হাবিব, ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী মো. শাফায়াত হোসেন, ‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মুহাম্মদ ফরহাদুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র মজলিস–সমর্থিত ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী তামজিদ উদ্দিন এবং ‘সর্বজনীন ছাত্র ঐক্য পরিষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাঈদ মো. রেদোয়ান। নামাজ শেষে তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ভোট চান।ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থী সাইদ বিন হাবিব বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট ও দোয়া চাইছি। সাড়া দারুণভাবে পাচ্ছি। গতকালও প্যানেলের অনেকে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছি।”অন্যদিকে ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী শাফায়াত হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাই উচ্ছ্বসিত। আমরা আমাদের প্যানেল নিয়ে ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর দুয়ারে যাচ্ছি।”ভোটার সংখ্যা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাআগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে চাকসুর সপ্তম নির্বাচন। এবার মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫২১ জন। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ১৩টি প্যানেল। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে ভোটাররা বলছেন, তাঁরা কেবল সংগঠনের নামে নয়, বরং প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, বর্তমান ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।চতুর্থ বর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান জুবাইর বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্যাম্পাসের পরিবেশ বদলে গেছে। এখন অনেক সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আমরা শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায়।”ইশতেহার ঘোষণাচাকসু ভবনের সামনে আজ সংবাদ সম্মেলন করে একটি প্যানেল তাদের ১৭ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের শাখা সভাপতি জুয়েনা সুলতানা। ভিপি প্রার্থী কেফায়েত উল্লাহ ও জিএস প্রার্থী কাজী শাহরিয়ার উল্লাহ যৌথভাবে ইশতেহার উপস্থাপন করেন।তাঁরা জানান, দলীয় আধিপত্যমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান অঙ্গীকার।ইশতেহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো:অনলাইন ভোটিং সিস্টেম চালুনিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলাশিক্ষক-শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরিসব প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনে রূপান্তরগুপ্ত রাজনীতি বিলুপ্ত করে বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একাডেমিক রাজনীতি চালুঅভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য ‘অভিযোগ সেল’ গঠনসামনে উত্তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাশিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এবারের চাকসু নির্বাচন হবে একটি টার্নিং পয়েন্ট। অতীতের মতো শুধু রাজনৈতিক প্রভাব নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ