বিআরটিসি চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাত: ম্যানেজার কামরুজ্জামান ও প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে
চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি ক্রাইম রিপোর্ট :

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) নিজস্ব ট্রাক বহর সরকারি মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে কৃষি ও সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চট্টগ্রামের কাফকো, টিএসপি, ড্যাব ও নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে সার নিয়ে উত্তরবঙ্গের বাফার গুদামে পৌঁছে দেওয়ার পর একই ট্রাকগুলো বিভিন্ন কৃষিপণ্য বয়ে নিয়ে ঢাকা, ফেনী, চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলা পরিষেবা করছে।চলমান অনুসন্ধানে চালক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ডিপোর বর্তমান ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান এবং তার অনুজ প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে লোডেড ফিরে আসা ট্রাকগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে খালি দেখিয়ে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব আত্মসাত করা হচ্ছে। চালকদের বিবরণে দেখা যায়: টাঙ্গাইলের করটিয়া অঞ্চলের এস্ অ্যান্ড এস ফিলিং স্টেশনের কাছে প্রতিনিধি মোঃ জসিম প্রতিদিন প্রায় ১০–১৫টি লোড গাড়িকে খালি দেখান; মেঘনা-দাউদকান্দি এলাকার মা ফিলিং স্টেশনের কাছে প্রতিনিধি মোঃ শফিকুল ইসলাম দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা ৮–১০টি লোড গাড়িকে খালি দেখান।চালকদের অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি লোড পয়েন্টে প্রতি গাড়ি থেকে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ওই অর্থের অর্ধেক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ম্যানেজার মোঃ কামরুজ্জামানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং বাকি অর্ধেক ভাগ করা হয় প্রতিনিধিদের ও ইয়ার্ড মাস্টারের মধ্যে। ইয়ার্ড মাস্টার মোঃ আনোয়ার ও তার ভাই মোঃ ইলিয়াস প্রতিদিন ভিন্ন উৎস থেকে ২০–৩০টি লোড গাড়ি নিয়ে এসে তত্ত্বাবধান করেন এবং ওই খাতে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণ করে আসছেন—চালকদের কাছে জমা থাকা অভিযোগে এভাবেই প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা ও মাসে কোটি টাকার বেশি রাজস্ব লোপাট করা হচ্ছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী বছরে এর পরিসর কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।চালকরা আরও জানান, যারা এই অনিয়ম প্রতিবাদ করেন তাদের ওপর শারীরিক হামলা, অগ্রাহ্য করা এবং ডিউটি থেকে বিরত রাখার প্রমাণও রয়েছে। অনেকে বলেন, ডিউটির জন্য ঘুষ (মাসোয়ারা) না দিলে তাদের কাজ করাতে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগে নাম উল্লেখ করা প্রতিনিধির তালিকায় রয়েছে: কাফকো প্রতিনিধি মোঃ রেদোয়ান; ড্যাব ও টিএসপি প্রতিনিধি মোঃ ইলিয়াস; ঘোড়াশাল প্রতিনিধি মোঃ নাজমুল ইসলাম।অভিযোগ যাচাইয়ের চেষ্টা করলে ম্যানেজার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, যারা বদলি করে আনা হয়েছে তারা রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভালো ভূমিকা রাখছে, আর অনেকেই সুবিধা চায়—সকলকে সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়; তিনি বলেন কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। রাজস্ব আত্মসাত সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি প্রতিবেদককে চট্টগ্রাম বেড়াতে আমন্ত্রণ জানান।অতিরিক্ত সচিব ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা অভিযোগ সম্পর্কে জানান—তথ্য হাতে আলোচনা করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরি ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে এই ধরনের সিন্ডিকেট সরকারি সম্পদের লুটপাট ও সেবা প্রদানে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যগুলোর সঠিকতা প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট চালক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে সংগৃহীত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে; প্রয়োজন মনে করলে আরও দলগত তদন্ত এবং অফিসিয়াল অডিট দাবি করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিতে সরকারের তৎপরতা জরুরি।


