মডেল মসজিদ প্রকল্প থেকে আওয়ামী লুটেরাদের ৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদক: এম এ নকিব নাছরুল্লাহ্

মডেল মসজিদের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য কেনাকাটায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত।প্রতিটি মসজিদের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিলো গড়ে ১৭ কোটি টাকা। তবে এলাকাভেদে ১৫ কোটি টাকা থেকে শুরু করে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এ-সব প্রকল্পে। প্রকৃতপক্ষে, বাজেটের চেয়ে মসজিদ নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় অর্ধেকেরও কম। বাকি টাকা আত্মসাৎ আওয়ামী সরকারের নেতারা লুটপাট করেছে। মডেল মসজিদের দুর্নীতি ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক মাফিয়া আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে মডেল মসজিদ নির্মাণের ঘোষনা করে। নির্বাচনের পর হাসিনা সরকার প্রথমে ৮৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। এ অর্থ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেবে বলে দেশ ব্যাপী সকল মিডিয়ায় প্রচারনা চালায়। ২০১৫ সালে এক লাফে এ বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা করা হয়। কিছুদিন পর দ্বিতীয় দফায় সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে অর্থ বরাদ্দ আরো বাড়িয়ে ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেয়া হয়।গণপূর্ত অধিদপ্তর এ প্রকল্পের জন্য একটি নকশা তৈরি করে। এতে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা, লাইব্রেরি, গবেষণাগার, পবিত্র কুরআন হিফজখানা, শিশু শিক্ষা কার্যক্রম, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, লাশ গোসলের ব্যবস্থা, হজ যাত্রীদের প্রশিক্ষণ এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়।প্রতিটি মসজিদের জন্য ৪০ শতাংশ জমি কেনার অর্থও বরাদ্দ দেয়া হয় এ প্রকল্পের আওতায়। জেলা পর্যায়ে চার তলা, উপজেলা পর্যায়ে তিন তলা ও উপকূলীয় এলাকায় নিচতলা ফাঁকা রেখে চার তলা ভবন নির্মাণের কথা বলা হয় উক্ত নকশায়। প্রতিটি মসজিদের জন্য ৪০ শতাংশ জমির প্রয়োজন হয়েছে। এলাকাভেদে এ জমির জন্য বরাদ্দ ছিল চার থেকে ছয় কোটি টাকা।মসজিদের জন্য আওয়ামী দস্যুদের কাছ থেকে যে-সব জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, রাতারাতি সে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। মৌজা মূল্য অনুযায়ী যে জায়গার দাম ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হওয়ার কথা, সেটি কেনা হয়েছে কয়েকগুণ বেশি দামে। ফলে জেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের সমন্বয়ে তৈরি সিন্ডিকেট মসজিদের জমি কেনার দ্বায়িত্ব লুফে নেয়।পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রকল্প অনুমোদন করেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা জায়গা নির্ধারণ করার মহান দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। গণপূর্ত অধিদফতরের সাথে সমন্বয় করে মসজিদের যাবতীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে স্হানীয় আওয়ামী দস্যুরা। তারা জায়গা নির্বাচন করে দিয়েছে আর জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণ করেছে। আওয়ামী ঠিকাদারের মাধ্যমে মসজিদ নির্মিত হয়েছে। এ-সব মসজিদের অধিকাংশ এখন ভুতুড়ে স্থাপনায় পরিনত হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে ৫৬৪টি মসজিদ নির্মাণ হওয়ার কথা। অথচ আওয়ামী লুটেরা সরকার ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে মাত্র ৩০০ মসজিদের নিম্ন মানের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে।আওয়ামী দস্যুরা প্রত্যন্ত গ্রামে স্বল্পমূল্যে জমি বরাদ্দ নেয়ার জন্য অনেক জেলা, উপজেলা থেকে ১৩/১৪ কিলোমিটার দূরে জনমানবশূন্য এলাকায় মসজিদ নির্মান করেছে। সদলবলে পলাতক লুটেরা গ্যাংয়ের জন্ম চোর এবং দস্যুদের আদি আঁতুড়ঘরে।সৌদি সরকার এ প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মতি দেওয়ার পর এ মডেল মসজিদ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। যার মধ্যে সৌদি সরকারের অনুদান হিসেবে দেবার কথা ছিল ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে বলে জানানো হয়। স্হানীয়ভাবে বাজারমূল্য অনুযায়ী দরপত্র (BOQ) হলে উক্ত প্রকল্প উন্নত মালামালের সাহায্য গুনগত মানসম্পন্ন মসজিদসমূহ মাত্র চারভাগের একভাগ খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিলো।আওয়ামী চোরেরা অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে এই অর্থ দিয়ে তারা কোথায় বিনোদন করেছে? এখনো করছে? মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন গজব তাদের জন্য নাযিলের আরো অনেক কারন রয়েছে। এই লুটেরা যে-সব দেশে পালিয়ে গেছে সে-সব দেশেও ওরা চোর, লুটেরাদের আতুঁড়ঘর বানাবে। উন্নত সে-সব দেশকে ওরা তলাবিহীন ঝুড়ি বানাবে।আওয়ামী চোরদের গজব থেকে দেশ এবং বিশ্বমানবতা মুক্তি পাক।মুহাম্মদ নাসীর উদ্দিন (কলামিস্ট ও প্রকাশক)পিরোজপুর মুক্তবার্তা


